হোমিওপ্যাথিতে চর্মরোগের (Skin Disease) চিকিৎসা সম্পূর্ণ রোগীভিত্তিক (Constitutional and Symptom-based)। অর্থাৎ, কেবল রোগের নামের ওপর নির্ভর করে ওষুধ দেওয়া হয় না, বরং রোগীর লক্ষণ, চুলকানির ধরন, ক্ষত থেকে তরল বের হওয়া বা শুকিয়ে যাওয়ার ওপর ভিত্তি করে ওষুধ নির্বাচন করা হয়। চর্মরোগে সাধারণভাবে বহুল ব্যবহৃত ও জনপ্রিয় কিছু হোমিওপ্যাথিক ওষুধ হলো:
- Sulphur (সালফার): ত্বক খুব বেশি চুলকালে, গরম পানিতে চুলকানি বাড়লে এবং ত্বকে জ্বালাপোড়া থাকলে এই ওষুধটি বেশি ব্যবহৃত হয়।
- Graphites (গ্রাফাইটিস): একজিমা বা চর্মরোগ থেকে যদি আঠালো, মধু বা রস-জাতীয় পদার্থ ঝরে এবং ত্বক খুব শুকনো ও ফাটলযুক্ত হয়।
- Rhus Toxicodendron (রাস টক্স): ত্বকে তীব্র লালচে ভাব, ফোলা ভাব এবং ছোট ছোট ফুসকুড়ি বা জলভর্তি ফোস্কা থাকলে এবং ঠান্ডা পানিতে বা নড়াচড়ায় কিছুটা উপশম মনে হলে এটি দেওয়া হয়।
- Apis Mellifica (এপিস ম্যালিফিকা): ত্বক হুল ফোটার মতো জ্বালা করে, ফুলে যায় এবং লাল হয়ে যায় এমন সমস্যায় কার্যকর।
- Arsenicum Album (আর্সেনিক অ্যালবাম): শুষ্ক, আঁশযুক্ত (scaly) এবং চুলকানিযুক্ত ত্বকের সমস্যায় ব্যবহার করা হয়।
- Petroleum (পেট্রোলিয়াম): শীতকালে বা সাধারণ সময়ে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে ফেটে গেলে এবং ফাটল থেকে রক্ত পড়লে এটি ব্যবহার করা হয়।
- Natrum Muriaticum (ন্যাট্রাম মিউর): ত্বকে ছোট ছোট জলভর্তি ফোস্কা বা অ্যালার্জাজনিত সমস্যায় দেওয়া হয়।
- Psorinum (সোরিনাম): দীর্ঘমেয়াদী বা বারবার ফিরে আসা (chronic) চর্মরোগের চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়। [1]
বিশেষ সতর্কতা:
হোমিওপ্যাথিক ওষুধ মনগড়া বা নিজে নিজে ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চর্মরোগের সঠিক মাত্রা ও স্থায়ী সমাধানের জন্য অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড ও অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
skin এর অল্প জ্বালাপোড়ার চিকিৎসায় কোন কোন হোমিওপ্যাথি ওষুধ ব্যবহৃত হয়?
ত্বকের অল্প জ্বালাপোড়া বা চুলকানির চিকিৎসায় লক্ষণ অনুযায়ী সাধারণত বেশ কিছু হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ব্যবহার করা হয়: [1]
- সালফার (Sulphur): ত্বকে জ্বালাপোড়া ও চুলকানি থাকলে, যা গরমে বা রাতে বিছানার তাপে বাড়ে এবং পানিতে ধুলে বাড়ে।
- অ্যাপিস মেলিফিকা (Apis Mellifica): ত্বক ফুলে গেলে, লাল হয়ে গেলে এবং সুঁই ফোটার মতো বা হুল ফোটানোর মতো জ্বালা বা চিনচিনে ব্যথা থাকলে।
- আর্সেনিকাম অ্যালবাম (Arsenicum Album): ত্বক শুকনা বা ভেজা যাই হোক না কেন, প্রচণ্ড জ্বালাভাব ও চুলকানি থাকলে।
- আর্টিকা ইউরেন্স (Urtica Urens): হঠাৎ করে অ্যালার্জি বা আমবাত (Hives) হলে এবং তীব্র জ্বালাপোড়া ও চুলকানি থাকলে এটি অত্যন্ত কার্যকর। মুখে খাওয়ার পাশাপাশি এর ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা যায়।
- রাসটক্স (Rhus Toxicodendron): চুলকানিযুক্ত ফোস্কা এবং লালচে ভাব থাকলে, যা গরম সেঁকে বা আবহাওয়া অনুকূলে কিছুটা উপশম হয়।
- ক্যালেন্ডুলা (Calendula): ত্বক কেটে যাওয়া, ছড়ে যাওয়া বা জ্বালাপোড়াযুক্ত সংবেদনশীল ত্বকে বাহ্যিক ব্যবহারে আরাম পাওয়া যায়। [1, 2, 3, 4]
পরামর্শ:
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পুরোপুরি লক্ষণভিত্তিক। তাই যেকোনো ওষুধ সেবন বা ব্যবহারের পূর্বে একজন রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
skin এর বেশি জ্বালাপোড়ার চিকিৎসায় কোন কোন হোমিওপ্যাথি ওষুধ ব্যবহৃত হয়?
ত্বকের অতিরিক্ত জ্বালা-পোড়া (Skin burning) কমাতে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় মূলত লক্ষণভিত্তিক কিছু ওষুধ ব্যবহার করা হয়: [1, 2]
- সালফার (Sulphur): ত্বকে তীব্র জ্বালা-পোড়া ও চুলকানি থাকলে এবং গরমে বা রাতে বিছানার তাপে কিংবা গোসলের পর জ্বালা বেড়ে গেলে এটি ব্যবহার করা হয়। [1, 2]
- আর্সেনিক অ্যালবাম (Arsenicum Album): ত্বক খুব শুষ্ক, লালচে ও জ্বালাপোড়া করলে—বিশেষ করে রাতে জ্বালা বাড়ে এবং সামান্য ছোঁয়ায় বা ময়েশ্চারাইজার লাগালেও আরাম না পেলে এটি নির্দেশিত হয়। [1]
- এপিস মেলিফিকা (Apis Mellifica): ত্বক হঠাৎ ফুলে যাওয়া, লাল হওয়া এবং মৌমাছির কামড়ের মতো হুল ফোটানো বা সুঁই ফোটার মতো তীব্র জ্বালা-পোড়া ও চুলকানি থাকলে এটি ব্যবহৃত হয়। [1, 2]
- আর্টিকা ইউরেন্স (Urtica Urens): ত্বকে হঠাৎ করে অ্যালার্জি বা আমবাত (Hives) ওঠা এবং প্রচণ্ড জ্বালা ও চুলকানির অনুভূতি হলে মুখে খাওয়ার পাশাপাশি বাহ্যিকভাবে লোশন বা ক্রিম হিসেবেও এটি ব্যবহার করা হয়। [1, 2]
- রাস টক্সিকোডেন্ড্রন (Rhus Toxicodendron): চুলকানিযুক্ত ফোস্কা বা র্যাশ যা আর্দ্র বা স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় বাড়ে এবং উষ্ণতায় কিছুটা আরাম পাওয়া যায়, এমন লক্ষণে এটি দেওয়া হয়। [1, 2]
- হেপার সালফার (Hepar Sulphuris): ত্বক খুব সংবেদনশীল, ব্যথাযুক্ত এবং সহজে পেকে গিয়ে পুঁজের উপক্রম হলে এটি ব্যবহার করা হয়। [1]
MATCDHAKA – Medical Assistant Training Centre in Dhaka Pharmacy, Veterinary, Dental, Nursing, Pathology, Physiotherapy and Homeopathy Training Institute in Dhaka